October 10, 2026, 6:57 pm
পুঁজিবাজারে হঠাৎ বড় দরপতন ভাবিয়ে তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে। করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ, টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন, অর্থনীতিতে গতি ফেরার পর পুঁজিবাজারে এই ধরনের পতনের পেছনে কারসাজি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আজ রোববার দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পতনের দিন আগারগাঁওয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যালয়ে হয়েছে দীর্ঘ বৈঠক।
সকালে দরপতন শুরুর হওয়ার পরই সংস্থার সারভেইল্যান্স টিমকে ডেকে পাঠান কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই ছিল এই টিমের সদস্যরা।
বৈঠকের বিষয়ে বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, অস্বাভাবিক সেল প্রেসার এসেছে ১১টি ব্রোকারেজ হাউজ থেকে। এগুলোর ওপরই চলছে নজরদারি। একই সঙ্গে পতনের সঙ্গে কোনো করসাজি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি জানান, বিএসইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে লেনদেন সময়ে বাজার পর্যবেক্ষণে গুরুত্ব দেয়া হবে। সেই সঙ্গে অস্বাভাবিক লেনদেন হওয়া ব্রোকার হাউসগুরোকে নজরদারি করা হবে।
গত কয়েক দিন ধরে বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর দাম বেড়ে চলছিল। আগামী বুধবার লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার শেষ কার্যদিবসে এর দাম বাড়ে প্রায় একশ টাকা। সকালে দাম আরও বেড়ে যাওয়ার পর শেয়ারের দাম একশ টাকার বেশি কমে যায়।
একদিনে সর্বোচ্চ দাম কমেছে বেক্সিমকো লিমিটেডের। বড় দরপতন হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা, একই গ্রুপের সাইনপুকুর সিরামিক আর টেলিকমিউনিকেশন খাতের রবির শেয়ারে।
এত দাম কমার মধ্যেও বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি হয়েছে বেক্সিমকো, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, লংকাবাংলা ফিনান্স, রবি, আর নতুন শেয়ার মীর আকতার, স্কয়ার ফার্মার।
বড় মুলধনী কোম্পানির মধ্যে আটটি কোম্পানি দর হারানোতেই সূচকের পতন হয় ৮০ পয়েন্ট। সব মিলিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক হারিয়েছে ১৪২ পয়েন্ট।
গত মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর বাজারে ব্যাপক দরপতন শুরু হওয়ার পরেও সূচকের এত বড় পতন দেখেনি ডিএসইতে। এর আগে এর চেয়ে বেশি পতন হয় দুই বছর আগে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ। সেদিন ডিএসই হারায় ১৬৮ পয়েন্ট।
বিজনেস নিউজ/এমআরএম